চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
দেশের গণতন্ত্রের অর্ডার ফিরিয়ে আনতে গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে বললেন,
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১১ই মার্চ ২০২৫ মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) এর দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তারা গত ১৬ বছর অনেক কষ্টের মধ্যে থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একটি মুক্ত বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টকে বিতাড়িত করে আমরা গণতান্ত্রিক ঐক্যের পথে চলছি। আগামী দিনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
আমীর খসরু আরও বলেন, গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।তাই গণমাধ্যমের সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো, গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনবো, মানুষের রাজনৈতিক সাংবিধানিক অর্ডার ফিরিয়ে আনবো। দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ পরস্পর সম্মানবোধ রেখে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি পরিবর্তনে একযোগে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন না হলে অন্য সংস্কার করে কোনো লাভ নেই।
তিনি আরো বলেন, যদি রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে না পারি তাহলে হাজারও সংস্কার করে কোনো লাভ হবে না। তাই রাজনীতিতে সহনশীলতা থাকতে হবে। ভিন্ন মত থাকলেও অপরপক্ষকে সম্মান জানাতে হবে। এটাই হবে বিএনপির রাজনীতি,তারেক রহমানের রাজনীতি। এ রাজনীতি নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
দেশের মানুষ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার একমাত্র পথ। আর তার বাহক হচ্ছে, দেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি, নির্বাচন। এর অপেক্ষায় রয়েছে দেশের মানুষ।
নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য এবং গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। যাদের জনসমর্থন নেই, যারা জনগণের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না, তারা বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণের মনে সংশয় সৃষ্টি করছে।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে, উক্ত অনুষ্ঠানে, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. শাহাদাত হোসেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়া। বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শামীম। বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—বিভাগীয় কমিশনার- ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো: হাসিব আজিজ। সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক- ইদ্রিস মিয়া। সদস্য সচিব- লায়ন মো: হেলাল উদ্দিন। যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা প্রমুখ।